সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মাঝে সাত দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় ‘আকস্মিক বন্যায় পাশে আছি’ প্রতিপাদ্যে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সদরের ব্র্যাক কার্যালয়ে আয়োজিত দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কক্সবাজার অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

এ সময় ব্র্যাক আলীকদম শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আকস্মিক বন্যার শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্র্যাক জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ও ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ অনুদানে এ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সাত দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি প্যাকেজ এবং সবজি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী কেনার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। ফলে প্রতিটি পরিবার মোট প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার সহায়তা পেয়েছে।

সহায়তা প্যাকেজে ছিল ১৪ কেজি চাল, ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি মটর ডাল, ১ কেজি সুজি, ১ কেজি বিস্কুট, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১০টি ওআরএস (খাবার স্যালাইন) এবং ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি।

প্রধান অতিথি সাইফুল ইসলাম রিমন বলেন, “দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি। ব্র্যাক ও ব্র্যাক ব্যাংকের এ মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “মানবিক সহায়তা ব্র্যাকের সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্যতম অংশ। দুর্যোগের শুরু থেকেই ত্রাণ, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনে ব্র্যাক কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

সহায়তা গ্রহণকারী পরিবারগুলোর ভাষ্য, বন্যায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও আয়ের উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছিলেন। এ খাদ্য ও নগদ সহায়তা তাদের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।